স্বধর্ম দোষযুক্ত হলেও তা কখনও পরিত্যাগ করার নয়। অগ্নিতে যেমন ধুম থাকে স্বধর্মেও তেমন কিছুটা দোষ থাকবেই।৪৮
যে সংযত ব্যক্তি অনাসক্ত হয়ে কর্ম করে সে কর্মের বন্ধন হতে মুক্ত হয়।৪৯
হে অর্জুন, সিদ্ধিলাভ করলে কীভাবে ব্রহ্মভাব হয় তা তোমাকে বলব।৫০
বুদ্ধি দ্বারা মনকে নির্মল ও সংযত করবে। তবেই ভোগের বিষয়-সকল দূর হয়ে যাবে।৫১
নিরিবিলি থাকলে ও নিরামিষ খেলে মন সংযত হয়।৫২
অহংকার, বল, কাম, ক্রোধ, লোভ ত্যাগ করতে পারলে মন নির্মল হয়।৫৩
ব্রহ্মভাব প্রাপ্ত হলে মন সুপ্রসন্ন হয়। তখন সর্বভূতে সমদৃষ্টি হয় এবং আমার প্রতি ভক্তি লাভ করে।৫৪
আমি সর্বব্যাপী। ভক্তিভরে আমার স্বরূপ জেনে আমার ভক্ত আমাতেই প্রবেশ করে।৫৫
আমার ভক্ত সমস্ত কর্ম করেও আমার অনুগ্রহে অব্যয় পদ প্রাপ্ত হয়।৫৬
হে অর্জুন, তুমিও সমস্ত কর্মের ফল আমাতে সমর্পণ ক'রে এবং আমাতে মনপ্রাণ রেখে স্বকর্ম করতে থাক।৫৭
মদগত চিত্ত হয়ে আমার উপদেশ অনুসারে চললেই তোমার মঙ্গল হবে।৫৮
অহংকারবশতঃ যদিও তুমি বল "আমি যুদ্ধ করব না" এটা ভুল। প্রকৃতিই তোমাকে কাজ করাবে।৫৯
যুদ্ধ তোমার স্বাভাবিক কর্তব্য। তুমি যদি স্বেচ্ছায় যুদ্ধ না কর তবে শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির প্রভাবে তুমি যুদ্ধ করতে বাধ্য হবে।৬০
ঈশ্বর সকল প্রাণীর মধ্যে আছেন। তিনিই তাদেরকে যন্ত্রারূঢ় পুতুলের মত ঘোরাচ্ছেন।৬১
হে অর্জুন, তুমি সর্বভাবে তাঁরই শরণ লও। তাঁর অনুগ্রহেই তুমি শান্তি ও নিত্য স্থান লাভ করবে।৬২
অতিগুহ্য এই কথা তোমাকে বললাম। এটা শুনে যা সঙ্গত মনে কর তাই কর।৬৩
তোমার ভালোর জন্য সর্বাপেক্ষা গুহ্য কথাটি তোমাকে এখন বলব।৬৪
আমাতে মন নিবিষ্ট কর, আমার ভক্ত হও, আমাকে নমস্কার কর। তা হলে তুমি আমাকেই পাবে কেননা তুমিই আমার অতি প্রিয়।৬৫
সমস্ত ধর্ম-কর্ম বাদ দিয়ে তুমি আমারই শরণ লও। আমি তোমাকে সকল পাপ হতে মুক্ত করব।৬৬
যে ভক্তিহীন, স্বধর্মে যার নিষ্ঠা নেই এবং যে আমার নিন্দা করে, সেই সব ব্যক্তিকে গীতাশাস্ত্র বলবে না।৬৭
যে ব্যক্তি ভক্তির সাথে গীতাশাস্ত্র ভক্তজনদেরকে পাঠ করে শোনায় সে অন্তিমে আমাকেই পেয়ে থাকে।৬৮
মানুষের মধ্যে তার চেয়ে প্রিয় আমার আর কেউ নাই।৬৯
যিনি গীতা পাঠ করবেন তিনি জ্ঞানরূপ যজ্ঞদ্বারা আমারই পূজা করবেন- এটাই আমি মনে করি।৭০
যে ব্যক্তি ভক্তির সাথে গীতাশাস্ত্র শ্রবণ করেন তিনি পাপমুক্ত হয়ে পুণ্যলোক প্রাপ্ত হন।৭১
হে অর্জুন, তুমি মন দিয়ে আমার কথা শুনেছ তো? তোমার মোহ দূর হয়েছে তো?৭২
অর্জুন বললেন- হে কৃষ্ণ, তোমার অনুগ্রহে আমার মোহ দূর হয়েছে। আমার মন স্থির। আমার মনে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নাই।৭৩
হে মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র, শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের এই কথোপকথন আমি শুনেছি।৭৪
মহর্ষি ব্যাসের অনুগ্রহে আমিই এই গীতা শ্রীকৃষ্ণকে বলতে ও অর্জুনকে শুনতে শুনেছি।৭৫
এই পুণ্যকথা আমি বার বার স্মরণ করছি আর বার বার আমার আনন্দ হচ্ছে।৭৬
বিশ্বরূপের দৃশ্যটি যতই আমার মনে পড়ছে ততই শরীর পুলকিত হচ্ছে।৭৭
যেখানে যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ ও বীর অর্জুন বিরাজমান সেখেনেই জয় ও রাছলক্ষ্মী বিরাজ করবেন- এটিই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।৭৮
*অষ্টাদশ অধ্যায় সমাপ্ত *
যে সংযত ব্যক্তি অনাসক্ত হয়ে কর্ম করে সে কর্মের বন্ধন হতে মুক্ত হয়।৪৯
হে অর্জুন, সিদ্ধিলাভ করলে কীভাবে ব্রহ্মভাব হয় তা তোমাকে বলব।৫০
বুদ্ধি দ্বারা মনকে নির্মল ও সংযত করবে। তবেই ভোগের বিষয়-সকল দূর হয়ে যাবে।৫১
নিরিবিলি থাকলে ও নিরামিষ খেলে মন সংযত হয়।৫২
অহংকার, বল, কাম, ক্রোধ, লোভ ত্যাগ করতে পারলে মন নির্মল হয়।৫৩
ব্রহ্মভাব প্রাপ্ত হলে মন সুপ্রসন্ন হয়। তখন সর্বভূতে সমদৃষ্টি হয় এবং আমার প্রতি ভক্তি লাভ করে।৫৪
আমি সর্বব্যাপী। ভক্তিভরে আমার স্বরূপ জেনে আমার ভক্ত আমাতেই প্রবেশ করে।৫৫
আমার ভক্ত সমস্ত কর্ম করেও আমার অনুগ্রহে অব্যয় পদ প্রাপ্ত হয়।৫৬
হে অর্জুন, তুমিও সমস্ত কর্মের ফল আমাতে সমর্পণ ক'রে এবং আমাতে মনপ্রাণ রেখে স্বকর্ম করতে থাক।৫৭
মদগত চিত্ত হয়ে আমার উপদেশ অনুসারে চললেই তোমার মঙ্গল হবে।৫৮
অহংকারবশতঃ যদিও তুমি বল "আমি যুদ্ধ করব না" এটা ভুল। প্রকৃতিই তোমাকে কাজ করাবে।৫৯
যুদ্ধ তোমার স্বাভাবিক কর্তব্য। তুমি যদি স্বেচ্ছায় যুদ্ধ না কর তবে শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির প্রভাবে তুমি যুদ্ধ করতে বাধ্য হবে।৬০
ঈশ্বর সকল প্রাণীর মধ্যে আছেন। তিনিই তাদেরকে যন্ত্রারূঢ় পুতুলের মত ঘোরাচ্ছেন।৬১
হে অর্জুন, তুমি সর্বভাবে তাঁরই শরণ লও। তাঁর অনুগ্রহেই তুমি শান্তি ও নিত্য স্থান লাভ করবে।৬২
অতিগুহ্য এই কথা তোমাকে বললাম। এটা শুনে যা সঙ্গত মনে কর তাই কর।৬৩
তোমার ভালোর জন্য সর্বাপেক্ষা গুহ্য কথাটি তোমাকে এখন বলব।৬৪
আমাতে মন নিবিষ্ট কর, আমার ভক্ত হও, আমাকে নমস্কার কর। তা হলে তুমি আমাকেই পাবে কেননা তুমিই আমার অতি প্রিয়।৬৫
সমস্ত ধর্ম-কর্ম বাদ দিয়ে তুমি আমারই শরণ লও। আমি তোমাকে সকল পাপ হতে মুক্ত করব।৬৬
যে ভক্তিহীন, স্বধর্মে যার নিষ্ঠা নেই এবং যে আমার নিন্দা করে, সেই সব ব্যক্তিকে গীতাশাস্ত্র বলবে না।৬৭
যে ব্যক্তি ভক্তির সাথে গীতাশাস্ত্র ভক্তজনদেরকে পাঠ করে শোনায় সে অন্তিমে আমাকেই পেয়ে থাকে।৬৮
মানুষের মধ্যে তার চেয়ে প্রিয় আমার আর কেউ নাই।৬৯
যিনি গীতা পাঠ করবেন তিনি জ্ঞানরূপ যজ্ঞদ্বারা আমারই পূজা করবেন- এটাই আমি মনে করি।৭০
যে ব্যক্তি ভক্তির সাথে গীতাশাস্ত্র শ্রবণ করেন তিনি পাপমুক্ত হয়ে পুণ্যলোক প্রাপ্ত হন।৭১
হে অর্জুন, তুমি মন দিয়ে আমার কথা শুনেছ তো? তোমার মোহ দূর হয়েছে তো?৭২
অর্জুন বললেন- হে কৃষ্ণ, তোমার অনুগ্রহে আমার মোহ দূর হয়েছে। আমার মন স্থির। আমার মনে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নাই।৭৩
হে মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র, শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের এই কথোপকথন আমি শুনেছি।৭৪
মহর্ষি ব্যাসের অনুগ্রহে আমিই এই গীতা শ্রীকৃষ্ণকে বলতে ও অর্জুনকে শুনতে শুনেছি।৭৫
এই পুণ্যকথা আমি বার বার স্মরণ করছি আর বার বার আমার আনন্দ হচ্ছে।৭৬
বিশ্বরূপের দৃশ্যটি যতই আমার মনে পড়ছে ততই শরীর পুলকিত হচ্ছে।৭৭
যেখানে যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ ও বীর অর্জুন বিরাজমান সেখেনেই জয় ও রাছলক্ষ্মী বিরাজ করবেন- এটিই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।৭৮
*অষ্টাদশ অধ্যায় সমাপ্ত *
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন